যুবশক্তি প্রকল্প: কবে থেকে শুরু হচ্ছে আবেদন? ফর্ম বাতিলের ঝুঁকি এড়াতে কী কী ডকুমেন্টস প্রস্তুত রাখবেন?
রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে রাজ্য সরকারের অন্যতম জনপ্রিয় উদ্যোগ ‘যুবশক্তি প্রকল্প’। এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য প্রার্থীদের প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। কিন্তু এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে গেলে আবেদনকারীদের বেশ কিছু নিয়মকানুন এবং সঠিক নথিপত্র জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। সামান্য ভুলের কারণে বহু আবেদনকারীর ফর্ম বাতিল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই জেনে নিন, ঠিক কী কী ডকুমেন্টস আপনার হাতের কাছে প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন।
ফর্ম ফিলাপের জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস এবং শর্তাবলী
অফিসিয়াল পোর্টালের নির্দেশিকা অনুযায়ী, আবেদন করার সময় নিম্নলিখিত নথিপত্রগুলি নির্দিষ্ট সাইজ এবং ফর্ম্যাটে আপলোড করতে হবে:
বয়সের প্রমাণপত্র (Age Proof): বয়স প্রমাণের জন্য মাধ্যমিক বা সমতুল্য পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড বাধ্যতামূলক। এটি স্ক্যান করে শুধুমাত্র PDF ফর্ম্যাটে আপলোড করতে হবে এবং ফাইলের সাইজ কোনওভাবেই ৩০০ KB-এর বেশি হওয়া চলবে না।
শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র (Educational Qualification): মাধ্যমিক বা সমতুল্য পরীক্ষা পাসের মার্কশীট অথবা সার্টিফিকেট প্রদান করতে হবে। এটিও PDF ফর্ম্যাটে এবং ৩০০ KB-এর মধ্যে রাখতে হবে।
সচিত্র পরিচয়পত্র (Identity Proof): পরিচয়পত্র হিসেবে ভোটার কার্ড এবং [Aadhaar Redacted] কার্ডের কপি আপলোড করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই নথিপত্রগুলি অবশ্যই ‘Self-Attested’ (নিজস্ব স্বাক্ষরযুক্ত) হতে হবে। জেরক্স কপির নিচে সই করে, স্ক্যান করে ৩০০ KB-এর মধ্যে PDF তৈরি করতে হবে।
ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ (Bank Details): যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অনুদানের টাকা গ্রহণ করতে চান, সেই ব্যাঙ্কের পাসবইয়ের প্রথম পাতার পরিষ্কার স্ক্যান কপি (যেখানে আবেদনকারীর নাম, অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং IFSC কোড স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে) আপলোড করতে হবে। উল্লেখ্য, ব্যাঙ্ক সংযুক্তিকরণের কারণে অনেকের পুরনো IFSC কোড পরিবর্তন হয়েছে, তাই আবেদন করার আগে পাসবই আপডেট করে নেওয়া বাঞ্ছনীয়।
কাস্ট সার্টিফিকেট (Caste Certificate): আবেদনকারী যদি SC, ST বা OBC তালিকাভুক্ত হন, তবে সংশ্লিষ্ট সার্টিফিকেটের সেল্ফ-অ্যাটেস্টেড কপি জমা দিতে হবে। সাধারণ বা জেনারেল ক্যাটাগরির প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয়।
ছবি এবং স্বাক্ষর (Photo & Signature): সম্প্রতি তোলা পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি এবং একটি সাদা কাগজে করা স্পষ্ট স্বাক্ষর আপলোড করতে হবে। অন্যান্য নথির মতো এগুলি PDF নয়, বরং ইমেজ ফাইল (JPEG/JPG) হিসেবে আপলোড করতে হবে এবং দুটিরই সাইজ সর্বাধিক ৫০ KB-এর মধ্যে হতে হবে।
সক্রিয় মোবাইল নম্বর (Active Mobile Number): একটি বৈধ এবং সক্রিয় মোবাইল নম্বর প্রদান করা আবশ্যিক। ফর্ম জমা দেওয়ার সময় OTP ভেরিফিকেশন এবং ভবিষ্যতে অ্যাপ্লিকেশন স্ট্যাটাস সংক্রান্ত যাবতীয় আপডেট এই নম্বরেই SMS-এর মাধ্যমে পাঠানো হবে।
কবে থেকে শুরু হচ্ছে আবেদন প্রক্রিয়া? কবে মিলবে টাকা?
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, বর্তমানে ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’ প্রকল্পের কাজ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে চলছে। এই কাজ কিছুটা সম্পন্ন হলেই যুবশক্তি প্রকল্পের পোর্টাল আবেদনের জন্য সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়া হবে।
সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, চলতি জুন মাসের শেষ সপ্তাহ (Last Week of June) থেকেই অনলাইনে এবং অফলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, আবেদন করার ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যেই উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকতে শুরু করেছে। সরকারি প্রক্রিয়ার এই দ্রুততার উপর ভিত্তি করে ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, যুবশক্তি প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই যোগ্য প্রার্থীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ভেরিফিকেশন শেষে অনুদানের টাকা ক্রেডিট হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: শেষ মুহূর্তের তাড়াহুড়ো এড়াতে এবং সার্ভার ডাউনের মতো প্রযুক্তিগত সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার আগেই আবেদনকারীদের উচিত সমস্ত নথিপত্র সঠিক মাপে এবং নির্দিষ্ট ফর্ম্যাটে স্ক্যান করে প্রস্তুত রাখা। নথির গুণগত মান বজায় রেখে সাইজ কমাতে অনলাইনে উপলব্ধ বিভিন্ন বিনামূল্যের ‘Image Compressor’ বা ‘PDF Compressor’ টুলের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।
