পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার আজকে প্রথম প্রশাসনিক বৈঠক করলেন! সামনে আনলেন একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
পশ্চিমবঙ্গের জনগণ বাংলার নতুন স্কিম অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার (Annapurna vandar) নিয়ে খুব উতসাহিত। তাই দেরি না করে রাজ্য সরকার ঘোষণা করলেন নতুন কিছু কর্মসূচি। খুব শীঘ্রই পাওয়া যাবে Annapurna vandar এর offline and online of pd form সাথে Status চেকিং।
সাম্প্রতিক পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাস পরিবর্তনের নিয়ে যখন জোর চর্চা চলছে তখনই নবান্নে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা প্রশাসনিক সংস্কার এবং সীমান্তবর্তী ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা সামনে আনলেন পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী।
পুরো রাজ্য অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক কাঠামোতে বড়সড় মূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলে দিলেন যে নতুন সরকার হলো স্বচ্ছতা তথ্য ভিত্তিক শাসন এবং আইনি শাসন হবে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনের মূল ভিত্তি।
পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার বিজেপি সরকার রাজ্যের ক্ষমতা পরিবর্তনের সাথে সাথে আজকে প্রথম প্রশাসনিক বৈঠক করলেন এবং একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এবং নির্দেশ সামনে আনলেন। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্প ও সরকারি পরিষেবা এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সমস্ত বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিয়ে নতুন পশ্চিমবঙ্গ এর মুখ্যমন্ত্রী অধিকারী মহাশয় বৈঠক করেন।
পুরনো সমস্ত প্রকল্প গুলোর বদলে ইঙ্গিত
বাংলা নতুন মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী মহাশয় ওনার বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে অংশটি তুলে ধরেছেন সেটি হল সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প। উনি জানিয়েছেন যে সমস্ত প্রকল্পগুলো পশ্চিমবঙ্গে আদিকাল ধরে চলে আসছে সে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প গুলোকে বন্ধ করা হবে না। মানুষের স্বার্থে চালু থাকা সমস্ত প্রকল্প গুলো চলবে। হ্যাঁ, তবে সেগুলো যারা পাওয়ার যোগ্য তারা অবশ্যই পাবে।
কোন প্রকল্পের কোন নাম পরিবর্তন হবে না শুধুমাত্র প্রকল্প গুলোর পোর্টাল থেকে পূর্ববর্তী মুখ্যমন্ত্রীর অর্থাৎ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবিগুলো সরানো হবে পরিবর্তে পশ্চিমবঙ্গে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর ছবি দেওয়া হতে পারে।
আজকে নবান্নে এই ঘোষণার পরেই বাংলার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে। কারণ দীর্ঘকাল ধরেই পশ্চিমবঙ্গের অর্থ বাংলার বিভিন্ন প্রকল্প যেমন স্বাস্থ্য সাথী, লক্ষীর ভান্ডা্ কন্যাশ্রী, রূপশ্র্ ইত্যাদি এবং ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষার জন্য সহায়তা প্রকল্প এবং খাদ্য সাথি নিয়ে নানান রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
তিনি আরও জানান ভবিষ্যতে সমস্ত প্রকল্পগুলোকে ডিজিটাল ভাবে পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হতে পারে এবং উপভোক্তার সমস্ত তথ্য সরাসরি যাচাই করা হতে পারে। এর জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থাৎ মোদি সরকারের ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT) Direct Beneficiary Transfer মডেল অনুসরণ করার পরিকল্পনা সামনে এনেছেন।
মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর টাকা সরাসরি সেই ব্যক্তির একাউন্টে পৌঁছালে মধ্যবর্তীর ভূমিকা কমবে এবং বাংলার দুর্নীতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে।
ভুয়ো বা জালি উপভোক্তাদের চিহ্নিতকরণে বিশেষ ব্যবস্থা
মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মহাশয় এদিন প্রশাসনিক দুর্বলতা নিয়েও নানান প্রশ্ন তোলেন। তিনি দাবি করেন যে বর্তমানে বাংলার বহু মৃত ব্যক্তি বা অযোগ্য ব্যক্তি নানান ভাবে সরকারি সুবিধা পাচ্ছেন যা প্রশাসনিক ব্যবস্থার ব্যর্থতার অন্যতম দৃষ্টান্ত।
তিনি বলেন খুব তাড়াতাড়ি সব সরকারি প্রকল্পের ডাটা গুলো পুনরায় যাচাই করা হবে ডিজিটাল ভেরিফিকেশন আধার লিং ও বর্তমানে নিয়মিত তথ্য আপডেট এর মাধ্যমে আসল উপভোক্তাদের সনাক্ত করার জন্য কঠোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
বিভিন্ন খবর সূত্রে অর্থাৎ বিশেষ করে প্রশাসনিক সূত্রের খবর থেকে জানা যাচ্ছে নতুন করে ব্লক ও জেলা লেভেলের বিশেষ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করে বাস্তব পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হবে।
যদি সত্যিই এরকম ব্যবস্থা হয় তাহলে সঠিকভাবে আসল উপভোক্তা রায় বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সাহায্য পাবেন এবং দুর্নীতি বন্ধ করে পশ্চিমবঙ্গের উন্নতির পথ সুগম হবে।
নতুন মুখ্যমন্ত্রী এ কথাও জানান, সব ভারতীয় নাগরিকদের সব রকম সুবিধা দেওয়া হবে না, যারা যোগ্য তারাই সমস্ত সুযোগ সুবিধা পাবেন। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে দীর্ঘকাল ধরে অনুপ্রবেশ নিয়ে আলোচনা চলে। খবর আসছে যে ভবিষ্যতে বাংলার নতুন কোন সরকারি প্রকল্পে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরো কঠিন থেকে কঠিনতম হতে পারে।
বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও প্রশাসনিক পদ্ধতির ও সমালোচনা করেছেন এবং ওনার বক্তব্য এই যে শুধুমাত্র রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে সরকার চলতে পারে না। পরিসংখ্যান তথ্য এবং ভারতীয় সংবিধানের নিয়ম মেনেই রাজ্যের প্রশাসন পরিচালনা করতে হবে।
তিনি আরো জানান যে আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিশেষ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আসয় নিয়ে আলোচনা হবে তার মধ্যে কয়েকটি নিচে দেওয়া হলঃ
১) মহিলাদের নিরাপত্তা
২) সরকারি কর্মীদের বকেয়া দিয়ে প্রতিষ্ঠান দুর্নীতি নতুন 7 পে কমিশন
৩) ডিজিটাল গভর্নেন্স
8) সরকারি চাকরি ক্ষেত্রে প্রশাসনিক নিয়োগের স্বচ্ছতা
পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তায় ৪৫ দিন
এদিনে বৈঠকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে অংশটি ছিল সেটি হল সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ও আলোচনা।
বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকাছি একাধিক জেলায় দীর্ঘকাল ধরে অবাধে অনুপ্রবেশ গরু পাচার এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিযোগ উঠে এসেছে সেইসব পরিস্থিতিকে সামনে রেখেই মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জি বলেছেন বিএসএফকে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তর করা হবে যাতে দ্রুতভাবে কাজ চলে এবং সীমান্তে তারকাটা দেওয়া হয়।
আগামী ৪০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্ত সংক্রান্ত জমির হস্তান্তরের কাজগুলো শেষ করতে হবে। যাতে ভারতের সীমান্ত অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত সুরক্ষা আরো শক্তিশালী হয়।
বাংলা রাজনৈতিক স্তরে তীব্র প্রতিক্রিয়া
এ প্রশাসনিক বৈঠকের বার্তার পর থেকেই বিরোধী পক্ষের রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া আসছে।
নতুন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ
এই বৈঠক নিয়ে সাধারণ মানুষ এবং রাজনীতি মহলে বিভিন্ন ভাবে আগ্রহ ও আলোচনা তৈরি হচ্ছে। তবুও বাস্তবে এই পরিবর্তন করা অতটা সহজ কাজ নয়। বিশেষ করে যে কাজগুলি করা খুবই কঠিন সেগুলি হল সরকারি ডাটাবেজ আপডেট, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, উপভোক্তাদের চিহ্নিতকর্ সীমান্তবর্তী এলাকার নিরাপত্তা, সরকারি কর্মীদের আর্থিক দাবি।
সামাজিক প্রকল্প চালু রাখার জন্য DBT পদ্ধতির মাধ্যমে বাংলার মানুষের জন্য স্বচ্ছতা বৃদ্ধি সীমান্ত নিরাপত্তার উপর জোরদার এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থায় এই চারটি বিষয়কে উনি ভবিষ্যতের প্রশাসনিক মন্ডলের আসল ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন।
এই বৈঠক থেকে আমরা এটাই জানতে পারি মুখ্যমন্ত্রীর ইচ্ছে ও আশা হল দুর্নীতিমুক্ত সরকার দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং দুর্নীতি মুক্ত জনগণ।
এখন দেখার বিষয় হচ্ছে এটা যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া এবং বাস্তব ক্ষেত্রে এই পরিকল্পনাগুলো কতটা দ্রুত এবং কতটা বাস্তব হবে সফল ও কার্যকরী হচ্ছে। তবে এটা নিশ্চিত ভাবে বলা যায় যে বাংলার অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গের পরিবর্তনের বার্তা দিয়ে নতুন সরকার ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে বিরাট আলোড়ন ঘটিয়েছেন।
Annapurna Vandar: সরকারি সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে আগামী জুন মাস থেকে এই প্রকল্প চালু হয়ে যাবে।
Annapurna Vandar Online Form: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের অনলাইন ফর্মের জন্য আলাদা পোর্টাল চালু হবে সরকার পক্ষ থেকে।
Annapurnavandar Offline Form: জানা যাচ্ছে পঞ্চায়েত এ পাওয়া যাবে অফলাইন ফর্ম।
Annapurna Vandar Form pdf: সরকারি পোর্টাল থেকেই পাওয়া যাবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের পিডিএফ ফর্ম।
Annapurna Vandar Apply Online Status: ফর্ম ফিলাপ চালু হলেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের স্টেটাস চেক করতে পারবেন।
